জামায়াত, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের তিন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই জোর প্রচারণায় নেমেছেন। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে মুখর হয়ে উঠেছে হরিপুর, রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী এলাকার নির্বাচনী মাঠ।
পাল্টে গেছে রাজনৈতিক বাস্তবতা,,,,
ঠাকুরগাঁও-২ (হরিপুর–রাণীশংকৈল–বালিয়াডাঙ্গী) আসনের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রভাব থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় মাঠে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
একসময় প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগের হাতে থাকায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনী সুবিধা আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই নীরব কিন্তু সংগঠিত কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা,,,,,,
আওয়ামী লীগের শূন্য মাঠকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটি দীর্ঘদিন পর এই আসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনটি গঠিত হরিপুর উপজেলার ৬টি, রাণীশংকৈল উপজেলার ২টি এবং বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে। তিন উপজেলার সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শক্তি মাঠে নামিয়েছে বিএনপি—এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রের।
বিএনপির প্রার্থী ডা. মো. আব্দুস সালাম,,,
এবার ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. মো. আব্দুস সালাম। তিনি ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও সুপরিচিত চিকিৎসক। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক পেয়েছেন তিনি।
ডা. সালাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি এবং তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছি। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের সুখ–দুঃখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মানুষের কল্যাণই আমার রাজনীতি ও পেশাগত জীবনের মূল লক্ষ্য।ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব অর্পণ করবে—এই বিশ্বাস আমার রয়েছে। এবারের ঠাকুরগাঁও-২ আসনে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলেই আমি আশাবাদী।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ডা. আব্দুস সালাম দায়িত্বশীল, শিক্ষিত ও জনমুখী নেতৃত্বের প্রতীক। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের শক্ত অবস্থান,,,,
একসময় জোটসঙ্গী থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত মাঠে জামায়াত তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীবাহিনী ও তৃণমূলভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে।
জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতি, সামাজিক কার্যক্রম এবং মসজিদ–মাদরাসা উন্নয়নে সক্রিয়। পাঁচবারের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারও তিনি মাঠে আছেন।
মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, মানুষের কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। জনগণই আমার শক্তি। সুযোগ পেলে সেবামূলক কাজ আরও সম্প্রসারিত করবো।
উপজেলা জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন সৎ, অভিজ্ঞ ও জনগণনির্ভর রাজনীতিক। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক রাজনীতির সর্বোত্তম বিকল্প।
তরুণ ভোটে ভরসা গণঅধিকার পরিষদের,,,,,
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ফারুক হাসান তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ পরিচিত মুখ। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ও নিয়মিত টকশো বক্তা হিসেবে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
ফারুক হাসান বলেন, আমি তরুণদের কণ্ঠস্বর। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।
গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি মোজাক্কেরুল ইসলাম সুমন বলেন, ফারুক হাসান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সাহসী ও যোগ্য নেতৃত্ব।
উত্তপ্ত নির্বাচনী মাঠ,,,
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তিন প্রার্থীর শক্ত অবস্থান, দলের উচ্চপর্যায়ের সমর্থন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তায় ভোটযুদ্ধ জমে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এই নির্বাচন জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।