দুই উপদেষ্টার অনুসারীদের কঠোর বিরোধিতা
দলীয় সূত্র বলছে, বৈঠকে তৃতীয় জোটে যাওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন যারা—তারা প্রায় সবাই বর্তমান সরকারের দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তাদের দাবি, সম্ভাব্য জোটে যদি এনসিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাদের অংশগ্রহণে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আপ বাংলাদেশ’ থাকে, তবে সেই জোটে যাওয়া হবে “রাজনৈতিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত”।
বিএনপির সঙ্গে জোট—নাকি নতুন প্ল্যাটফর্ম?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এনসিপির ভেতরে আলোচনা চলছে—দলটি কি বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান জোটের সঙ্গে যাবে, নাকি নতুন একটি তৃতীয় জোট গঠন করবে। এ নিয়ে দলীয় অভ্যন্তরে স্পষ্টভাবে দুই ভাগ তৈরি হয়েছে।
আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং তাঁর অনুসারীরা চান
এবি পার্টি, জেএসডি, গণ অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে একটি তৃতীয় জোট গড়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে।
অপরদিকে দুই উপদেষ্টার অনুসারীরা মনে করেন
বিএনপির বিদ্যমান জোটে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকে বেশি সুবিধাজনক।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, দুই উপদেষ্টার নাম ঘিরে “বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে” এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে।
ছাত্র সংগঠনের অবস্থানও বিভক্তি বাড়িয়েছে
জোট গঠন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন আলোচনার জন্ম দেয় ছাত্র রাজনীতি। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। এনসিপির ছাত্র সংগঠনের নেতারা এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানান।
দলীয় নেতারা বলছেন, ছাত্র সংগঠনটি দুই উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ প্রভাবাধীন হওয়ায় এই পদক্ষেপকে এনসিপিকে বিএনপির দিকে আরও সরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিদ্ধান্তহীনতার কারণে স্থগিত হলো সংবাদ সম্মেলন
জোট প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় বৈঠক শেষে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনেও আসেননি এনসিপির শীর্ষ নেতারা। ফলে দলটির অবস্থান কী—সেটি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।
পরবর্তী করণীয় কী?
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন,
এনসিপি নেতৃত্ব আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা ডাকবে। তবে দুই পক্ষে অবস্থান এতটাই দূরত্বে পৌঁছেছে যে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।