মোঃ লিটন হোসেন-ঢাকা: ঢাকা মহানগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো যানজট। প্রতিদিন লাখো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় রাস্তায় ব্যয় করেন। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে রাজধানীর সড়কগুলো ইতোমধ্যেই চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য একটি সহজ ও জনপ্রিয় বাহন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে এই যানবাহনের চলাচল অনেক ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর প্রধান সড়ক, ব্যস্ত মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতেও এসব রিকশা নির্বিচারে চলাচল করছে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত রিকশা অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করছে এবং ট্রাফিক আইন না মেনে ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ সড়কে প্রবেশ করছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। প্রায়ই এসব রিকশার কারণে ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।
বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন, রুট নির্ধারণ, চালকের প্রশিক্ষণ কিংবা সড়কে চলাচলের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর কোনো আইনি কাঠামো বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ প্রতিনিয়ত এসব যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু পরিবহন ব্যবস্থাপনার নয়, বরং জননিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
তাই সময়ের দাবি হলো, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা। কোন সড়কে চলবে, কোথায় চলবে না, কী ধরনের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
জনগণের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রোধে এখনই প্রয়োজন দৃঢ় ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। অন্যথায় রাজধানীর যানজট ও সড়ক বিশৃঙ্খলা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
লেখক: মোঃ লিটন হোসেন
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
স্কুল অব ল'
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়