অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব ল-এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। ৮ম থেকে ১৩তম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল-এর অধীনে বাউবি মুট কোর্ট সোসাইটির যাত্রা আইন বিভাগের জন্য একটি গৌরবময় ও আবেগঘন মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ছিদ্দিকুর রহমান খানের প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব, নিরলস দিকনির্দেশনা এবং সর্বাত্মক সহযোগিতায় স্কুল অব ল-এর কার্যক্রম নতুন গতি ও প্রাণশক্তি লাভ করেছে। আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে তাঁর আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহের জন্য তিনি উপাচার্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং আয়োজকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়াও তিনি কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক কে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ড. নাহিদ ফেরদৌসী বলেন, আইন শুধু একটি পেশা নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের পাশে থাকার একটি মহান দায়িত্ব। একজন আইনজীবীকে মানবিকতা, সততা, পেশাগত নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকা এবং আইনের মানবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ, মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সবচেয়ে বড় সম্পদ। ভবিষ্যতে তোমরা দেশের আইন অঙ্গনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবে।”
কর্মশালার মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাউবি আইন বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট গাজী হাসান মাহমুদ। তিনি বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির বিভিন্ন ধাপ, পরীক্ষার প্রস্তুতি, পেশাগত চ্যালেঞ্জ এবং সফলতার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “যেদিন থেকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবে, সেদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। জীবনে যত বেশি বাধা আসবে, তত বেশি সফল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই নিজেকে সবসময় সংগ্রাম ও সাফল্যের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।”
সেমিনারে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা বার কাউন্সিল পরীক্ষা, আইন পেশার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন, যার উত্তর দেন মূল বক্তা। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পরবর্তী পেশাগত জীবনে বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তি এবং আইন পেশায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাউবি মুট কোর্ট সোসাইটির আহ্বায়ক ও স্কুল অব ল-এর প্রভাষক সজল আহমেদ বাপ্পী। তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের যথাযথ ব্যবহার, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে স্কুল অব ল-এর বিভিন্ন ব্যাচের ১০০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অ্যালামনাই অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এ সময়োপযোগী কর্মশালার মাধ্যমে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি, আইন পেশার বাস্তবতা এবং পেশাগত উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূল্যবান জ্ঞান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা ভবিষ্যতে বাউবি মুট কোর্ট সোসাইটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মুট কোর্ট চর্চা এবং পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।