উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমি বিদ্যালয়ে পাঠদান ফাঁকি দিয়ে নিকাহ/বিবাহ রেজিস্ট্রি ও সম্পাদনের কাজে যুক্ত থাকি। এমন তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে আমি কখনোই শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ফাঁকি দিয়ে কোনো বিবাহ পড়াতে বা কাবিননামা সম্পাদন করতে যাই না। আমার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনুপস্থিতির প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট হাজিরা খাতা, ক্লাস রুটিন ও দায়িত্ব পালনের রেকর্ড যাচাই করলেই সহজেই প্রমাণিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আমাকে শিক্ষকতার পাশাপাশি ‘লাভজনক পেশায়’ যুক্ত এবং এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমন উপস্থাপনায় আমি গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ ও বিব্রত। কারণ, আমার বিরুদ্ধে কোনো কর্তৃপক্ষের তদন্ত, শুনানি কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অথচ সংবাদটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ পাঠকের কাছে মনে হতে পারে যে আমি ইতোমধ্যে কোনো বিধি লঙ্ঘন করেছি।
আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া এবং সেই অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। যথাযথ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া কাউকে বিধি লঙ্ঘনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়সংগত ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এমপিও নীতিমালার কোনো বিধান আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণের আগে আমার নিয়োগের ধরন, দায়িত্ব পালনের প্রকৃতি, নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বের আইনগত অবস্থান, পারিশ্রমিকের বিষয় এবং সর্বোপরি বিদ্যালয়ের পাঠদান ও দায়িত্ব পালনে বাস্তবে কোনো ব্যাঘাত ঘটেছে কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে যাচাইয়ের কোনো প্রতিফলন নেই।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, বিষয়টি ‘তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অর্থাৎ সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। তাহলে তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই আমাকে বিধি লঙ্ঘনকারী হিসেবে জনমনে উপস্থাপন করার কারণ কী—এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই থেকে যায়।
আমি যেকোনো বৈধ ও নিরপেক্ষ তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রেকর্ড ও বক্তব্য উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তদন্তে যদি আমার কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে তা আমি মেনে নেব। কিন্তু তদন্তের আগেই একজন শিক্ষককে সামাজিক ও পেশাগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা পেশা, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনামের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কর্তৃপক্ষের অবস্থান যথাযথভাবে যাচাই করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তমূলক ভাষা ব্যবহার করলে একজন ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি হতে পারে।
অতএব, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট অংশ যথাযথভাবে যাচাই করে আমার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রকাশ এবং কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর হয়ে থাকলে তা সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আমার সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে আমার বক্তব্য, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার অনুরোধ করছি।
আমি আইন ও বিধির প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেকোনো বৈধ তদন্ত ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তবে তদন্ত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পূর্বে আমাকে ‘বিধি লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে জনমনে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সত্য উদঘাটিত হোক—তবে তা হোক তথ্য, নথি, প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে; কোনো একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে নয়।
প্রতিবাদকারী
মৌলবি আব্দুল করিম
সহকারী শিক্ষক
রণহাট্টা চৌরঙ্গী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
হরিপুর, ঠাকুরগাঁও