জাগরণ বিডি অনলাইন ডেস্ক | রংপুর | ৪ জুন ২০২৬
রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন এবং কনস্টেবল বাসুদেব। তাদের সবাইকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) রাতে কোতোয়ালি থানার ভেতরে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলামকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ ওঠে ওসি আজাদ রহমান ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরপরই পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম।
তারা অভিযোগ করেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে থানার ভেতরে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি অতীতের দমন-পীড়নের ঘটনাগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা শুধু প্রত্যাহার নয়, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জহির আলম নয়ন বলেন, “মানুষ নিরাপত্তার আশায় থানায় যায়। সেখানে যদি একজন রাজনৈতিক নেতাকেই মারধরের শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
তিনি আরও জানান, দলীয় নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।