মোঃ কবিরুল ইসলাম কবির
প্রকাশ : Jan 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি বালু মহাল না থাকায় চরম বিপাকে উন্নয়ন কাজ

মো: মোবারক আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি ভাবে কোনো বালু মহাল না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলজিইডির উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং ইটভাটা মালিকরা। একই সঙ্গে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাকা বসতবাড়ি নির্মাণেও বালু সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরকার অনুমোদিত বালু মহাল না থাকায় ঠিকাদারদের বাধ্য হয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের পঞ্চগড় জেলা থেকে উচ্চমূল্যে বালু সংগ্রহ করে নির্মাণকাজ চালাতে হচ্ছে। এতে নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং সময়মতো কাজ শেষ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, বালু মহাল না থাকায় প্রতি বছর সরকার এ খাত থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
স্থানীয় কুলিক নদী কিংবা বিভিন্ন জলাশয় থেকে বালু উত্তোলন করতে গেলেই প্রশাসনের বাধা, জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে চোরাই পথে উত্তোলিত বালু ব্যবহার করছেন, যা একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে আইনগত সমস্যারও সৃষ্টি করছে।
একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাণীশংকৈল উপজেলায় বর্তমানে মোট ২৬টি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইটভাটার জন্য বছরে প্রায় ৪০ হাজার সেপটি বালুর প্রয়োজন হয়। এছাড়া এলজিইডির আওতায় বর্তমানে প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে, যেখানে প্রতি কিলোমিটার রাস্তায় গড়ে ২৭ হাজার সেপটি বালুর প্রয়োজন হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বৈধ বালু মহাল না থাকায় এসব চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আহাম্মেদ হোসেন বিপ্লব বলেন,
“এই উপজেলায় বৈধ বালু মহাল না থাকায় দূরের জেলা থেকে চড়া দামে বালু কিনে আনতে হচ্ছে। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। দ্রুত সরকার ঘোষিত বালু মহাল অনুমোদন দেওয়া এখন জরুরি।”
ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু তাহের বলেন,
“স্থানীয়ভাবে বালু মহাল না থাকায় আমরা ঠিকাদাররা খুবই বেকায়দায় আছি। দূর থেকে বালু এনে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন,
“বালু মহাল স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট উপযোগী এলাকা প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এ উপজেলায় সে ধরনের কোনো নির্ধারিত পয়েন্ট নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা, ইটভাটা মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের দাবি—উন্নয়ন কাজের স্বার্থে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে দ্রুত রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি ভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী বালু মহাল অনুমোদন দেওয়া হোক।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

1

রাণীশংকৈলে দুর্যোগের সেতুতে জনদূর্ভোগে অতিষ্ঠ কৃষকরা ঢাল বেশ

2

মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, তার পক্ষে কাজ করতে হবে: তারেক রহমান

3

একাত্তরের চেতনা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জ

4

দলীয় কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হ

5

রাণীশংকৈলে মোটরসাইকেল-ট্রাক সংঘর্ষে ১জন নিহত, ১জন গুরুতর আহত

6

আরও ৩৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

7

রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন

8

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

9

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়াই গভর্নরসহ ৬ পদে নিয়োগ দেবেন রাষ্

10

অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ

11

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন , স্পষ্ট করলেন মি

12

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

13

রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি বালু মহাল না থাকায় চরম বিপাকে উন্নয়

14

বিএনপির রাজনৈতিক পরিণতি ও ভারসাম্যের রাজনীতি

15

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

16

রাণীশংকৈলে ইএসডিও–এডুকো শিক্ষা প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং মি

17

যারা শুক্রবারের অনুষ্ঠানে গেছে তারা গণঅভ্যুত্থান ও জনগণ থেকে

18

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

19

এক পরিবারে একাধিক মনোনয়ন নয়: নীতিতে অটল বিএনপি

20