জাগরণ বিডি অনলাইন ডেস্ক: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পাওনা টাকা পরিশোধ এড়ানো এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (৩১ মে) পিবিআই মুন্সিগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এর আগে, শুক্রবার (২৯ মে) গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার ফুলদী নদী থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ৩০ মে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই মুন্সিগঞ্জ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) ও আলামিন প্রধান (৫০)।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান জানান, নিহত তরুণীর কাছে আবু কালামের ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার প্রায় ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। এক আত্মীয় তাদের সম্পর্ক দেখে ফেলায় বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জামাল হোসেনের সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কা এবং পাওনা টাকা পরিশোধ এড়ানোর উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে ওই তরুণীকে বড় ভাটেরচর এলাকার নদীর তীরে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকাযোগে নদীর ওপারে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এরপর তার পরনের পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।