জাগরণ বিডি ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। ফুসফুসে সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কিডনি, লিভার সিরোসিস, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের জটিলতাও রয়েছে।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা “অত্যন্ত সংকটময়” এবং গত কয়েক দিনে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়টি বোর্ড বিবেচনা করছে।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, ডিসেম্বরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে আগেই তারেক রহমানের দেশে আসার পরিকল্পনা ছিল। তবে মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়ে তিনি অতি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারেন। তার নিরাপত্তা, বাসভবন সংস্কার এবং অন্যান্য প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
লন্ডন থেকে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন। জুবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে প্রতিদিন ভার্চুয়ালি চিকিৎসা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং পরিবারের আরও সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত আছেন।
গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সিসিইউতে কাউকে প্রবেশের অনুমতি নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রতিদিন গুলশানের বাসা থেকে খাবার আনা হচ্ছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় গতকাল বাদ জুমা সারা দেশে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতারা দেশবাসীর প্রতি তার সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন।