বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি এবং একটিতে অংশ নিলেও ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আমরা সবাই কারাগারে ছিলাম। কিন্তু এবার পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনের সুযোগ এসেছে।”
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে সরকার দায়িত্বে রয়েছে তারা একটি নিরপেক্ষ সরকার এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে আগ্রহী। এবারের নির্বাচনে জোরজবরদস্তি, রাতের ভোট কিংবা কারচুপির কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পথসভায় বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল ও তেল কিনতে পারবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সেচ ও সার ক্রয় করা যাবে এবং কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি মা-বোনদের জন্য এনজিওর সকল কিস্তি এক বছরের জন্য মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট পাকাকরণ, এলএসডি গোডাউন নির্মাণ এবং আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হবে। তরুণদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, নারীদের জন্য নার্সিং ট্রেনিং এবং প্রযুক্তিগত ডাটা এন্ট্রি ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করতে পারে।
বিমানবন্দর চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে মানুষের আয় বাড়াতে হবে। আয় বাড়লে বিমানবন্দর চালু করা কঠিন হবে না। তবে সবার আগে তিনি একটি উন্নতমানের হাসপাতাল নির্মাণ করতে চান, যাতে এলাকার মানুষ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলছি—নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না।”
তিনি বলেন, এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের আমানতের খেয়ানত করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
পথসভায় জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখে দিতে চেয়েছিল এবং তারা কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না।
শেষে তিনি বলেন, “স্লোগানের রাজনীতি শেষ। এবার কাজের রাজনীতি করতে হবে।” তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আবারও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।