মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পিআইও নুরুন্নবী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। অফিসে আগত সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিস কক্ষে বসেই ধূমপান করেন। বক্তাদের আরও অভিযোগ, শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি কম্বল বিতরণ না করে তিনি স্বচ্ছল ও নিজের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছেন। এমনকি নিজের সরকারি কোয়ার্টারের শয়নকক্ষে কম্বল মজুদ রেখে পছন্দের লোকজনকে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেক ছিন্নমূল মানুষ জানান, শীতবস্ত্র পাওয়ার আশায় একাধিকবার পিআইও’র কার্যালয়ে গিয়েও তারা কোনো সহায়তা পাননি। বাধ্য হয়েই তারা মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রানীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মোহনা টিভির প্রতিনিধি সাংবাদিক ফারুক আহম্মেদ। তিনি বলেন, “পিআইও নুরুন্নবী নিজেকে ‘হেডম’ দাবি করে সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। অফিসে বসে ধূমপান করা সরকারি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আমরা তার দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করছি।”
একই দাবিতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক পেয়ার আলী। তিনি অভিযোগ করেন, “এই পিআইও ইউএনওকেও তোয়াক্কা করেন না। ইউএনওর কোনো নির্দেশ বা সুপারিশ তিনি মানেন না। কথায় কথায় বলেন—এমপি, মন্ত্রী কিংবা ইউএনও কাউকেই তিনি মানেন না।”
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা আব্দুর রহিম বলেন, “সাধারণ মানুষ অফিসে গেলে পিআইও নুরুন্নবী গালিগালাজ করেন। এমন অসভ্য কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।”
মানববন্ধনে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে পিআইও নুরুন্নবীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, “আমি জেলায় অবস্থান করছিলাম। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।”