প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 19, 2026 ইং
রাণীশংকৈলে সরকারী দোকানঘর বিক্রির অভিযোগ

নাজমুল হোসেন, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:-
ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নেকমরদ হাটের সরকারী জায়গায় গড়ে উঠা ২টি পাকা দোকানসহ জায়গা বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। নেকমরদ এলাকার আশরাফুল ইসলাম নামে একজন বাদী হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরের অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ্য করেন নেকমরদ এলাকার সার ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নীতিমালা ভঙ্গ করে দুটি দোকান প্রায় ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নেকমরদ এলাকার ব্যবসায়ী ও রাসায়নিক সারের পরিবেশক খাইরুল ইসলাম নেকমরদ বাজার এলাকায় নামে বেনামে বিভিন্ন দোকানের জায়গা দখল করে সেখানে স্থাপনা করেন। এরপরে সেই দোকানগুলো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেচাকেনা করেন। নেকমরদ ভুমি অফিসের তথ্যমতে নেকমরদ বাজার এলাকায় প্রায় ৬০টি দোকান জেলা প্রশাসনের তালিকাভুক্ত। তবে বিক্রি হওয়া দোকান দুটি তালিকায় রয়েছে কিনা তা জানা নেই ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের।
সরেজমিনে গিয়ে সোমবার(১৯ জানুয়ারী)দেখা যায়, বড়সড় একটি জায়গা নিয়ে পাকা ভবনে রয়েছে বস্ত্রলায়ের দোকান। সেই দোকানের পরিচালক আব্দুল মোমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন আগে এই দোকানটি খাইরুল ইসলামের নিকট ক্রয় করেন। তবে কত টাকায় ক্রয় করেন তা বলতে নারাজ তিনি। একইভাবে আরেকটি দোকান খাইরুল ইসলাম বিক্রি করেন সেটিতে বর্তমানে ওষুধের দোকান। সেখানে কথা হয় ওই দোকানের পরিচালক আজিমুল ইসলামের সাথে তিনি জানান, দোকানটি তিনি অনেকদিন আগে কিনেছেন খাইরুলের ভাগিনার কাছে। তবে কত টাকায় কিনেছেন সেটি তিনি বলতে নারাজ।
এদিকে স্থানীয় হামিদুর রহমান,নবাব আলী বলেন, সার ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম নেকমরদ বাজারে নামে বেনামে বিভিন্ন দোকানসহ সরকারী জায়গা দখল করে আছেন। নেকমরদ এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতাসহ স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে তিনি এটি করছেন। একইভাবে তিনি কয়েকটি দোকান ইতিমধ্যে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে অনেক জায়গা নিয়ে দুটি গোডাউন করে জায়গা দখলে রেখেছেন। তারা বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে এই দোকান ব্যবসায়ী খাইরুলের বিচার দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে খাইরুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে বলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মজিবুর রহমান বলেন, লাইসেন্স প্রাপ্ত দোকানঘর বিক্রির সুযোগ নেয়। একটি অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © জাগরণ বিডি ২০২৫