প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 5, 2026 ইং
ঠাকুরগাঁওয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল

মনসুর আহাম্মেদ | ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
এক সময় গ্রামবাংলার কৃষির প্রধান ভরসা ছিল গরু ও লাঙল দিয়ে হাল চাষ। যুগের পরিবর্তন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাঙল দিয়ে চাষ করলে জমির গভীর স্তর ভালোভাবে আলগা হতো। গরুর পায়ে কাদা তৈরি হওয়ায় মাটি নরম থাকত এবং গোবর পড়ার ফলে জমির উর্বরতাও বাড়ত। কিন্তু বর্তমানে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে অল্প সময়ে জমি চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী হাল চাষ থেকে সরে যাচ্ছেন।
এক সময় কাকডাকা ভোরে গরু, লাঙল ও বাঁশের জোয়াল কাঁধে নিয়ে কৃষকদের মাঠে যেতে দেখা যেত। সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। প্রয়োজন হলেই আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে করে হালচাষের ওপর নির্ভরশীল অনেক কৃষক পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের কৃষক মমতাজ আলী ও নজরুল ইসলাম বলেন,
“শৈশবে হাল চাষ করেই বড় হয়েছি। তখন আমাদের বাড়িতে কয়েক জোড়া বলদ, কাঠের লাঙল আর বাঁশের জোয়াল ছিল। এখন এসব শুধু স্মৃতিতেই রয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন,
“গরু ও লাঙল দিয়ে হাল চাষ ছিল পরিবেশবান্ধব এবং ঐতিহ্যবাহী একটি কৃষি পদ্ধতি। তবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কম সময়ে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষি আরও প্রযুক্তিনির্ভর হবে—এটাই স্বাভাবিক।”
আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার গরু দিয়ে হাল চাষের বহু বছরের চিরচেনা ঐতিহ্য—যা একসময় ছিল কৃষকের জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
স্বত্ব © জাগরণ বিডি ২০২৫