ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এলজিইডির একটি রাস্তা পাকা করার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার হোসনেগাঁও ইউনিয়নের উত্তরগাঁও থেকে হোসেনগাঁও পর্যন্ত বৃহত্তর দিনাজপুর প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার কাজ পায় মেসার্স জাসমির কনস্ট্রাকশন, ঠাকুরগাঁও। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজে লাভ রেখে স্থানীয় শাহাবুদ্দিন মাস্টার ও রফিকুল ইসলাম (ইউএনও অফিসের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা)-এর কাছে কাজটি বিক্রি করে দেয়। পরে তারা কাজটি শুরু করেন। মূল ঠিকাদারকে লাভ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে রাস্তার কাজে নিম্নমানের ইট ও মাটিমিশ্রিত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তায় রেজিং ও নির্মাণকাজে ৩ নম্বর ও ২ নম্বর নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা টেকসই নয়। এ কারণে গত ২৬ ডিসেম্বর এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন,
“রাস্তার কাজে ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে শাহাবুদ্দিন মাস্টার বলেন,
“বিএনপির সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ ও রফিকুল ইসলামসহ আমরা কাজটি করছি। স্থানীয় লোকজনের আপত্তির কারণে কাজ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। নতুন ভালো মানের ইট এলেই আবার কাজ শুরু করা হবে।”
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন,
“হোসেনগাঁও এলাকায় ১ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। ইটের মান খারাপ হওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ আছে। ঠিকাদারকে বাইরে থেকে ভালো মানের ইট এনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”