পাখির কিচিরমিচির শব্দ কার না মন কেড়ে নেয়! বিশেষ করে যখন রঙিন পালকের নানান জাতের দেশি-বিদেশি পাখি একসঙ্গে ডাকে—দৃশ্যটা তখন আরও মনোমুগ্ধকর। ঠিক এমনই শখ থেকেই বেকার যুবক মোশাররফ হোসেনের পথচলা শুরু। আর সেই শখই এখন তাকে বানিয়ে তুলেছে সফল বাণিজ্যিক পাখি খামারি।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের সহদোর গ্রামের তাহেরুল ইসলামের (তহরুম মেম্বার) ছেলে মোশাররফ ৫ বছর আগে শখের বসে কয়েকটি পাখি কিনে পালন শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয় তার জীবিকার অন্যতম নির্ভরতায়। নিয়মিত যত্ন, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় এখন তার খামারে রয়েছে শানকুনুর, পাইনএপেল, কুনুর, সোনালী ময়না, বিভিন্ন রঙের কোকাটেল, লাভবার্ডসহ বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি।
শুধু পাখি নয়, তার খামারে রয়েছে আমেরিকান লাতামেক্স কুকুর এবং পার্সিয়ান বিড়ালও। প্রতিদিনই এসব দেখতে ভিড় করেন কৌতূহলী মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, মোশাররফের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিকতা সত্যিই অনুকরণীয়। তার উদ্যোগ আজ এলাকার তরুণদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
মোশাররফ হোসেন বলেন,
“গত পাঁচ বছর ধরে খামার করছি। ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে পাখির খামার গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে এলাকার বেকার যুবকদের এ কাজে যুক্ত করতে চাই।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুপম চন্দ্র মহন্ত বলেন,
“পাখির রোগ-বালাই তুলনামূলক কম। অল্প খরচে ও কম সময়ে এসব পাখি লালন-পালন করা যায়। এটি খুবই লাভজনক একটি পেশা। আমাদের দপ্তরের সহযোগিতা সবসময় অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগম বলেন,
“প্রাণিসম্পদ মেলায় মোশাররফের স্টলে পাখি দেখে ভালো লেগেছিল। তাই আমার ছোট ভাগিনার জন্য এখান থেকে পাখি কিনতে এসেছি। তার খামার দেখে খুব ভালো লাগছে। তরুণরা যদি এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে আসে, তবে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।”
শখ থেকে শুরু করা সংগ্রাম ও সফলতার এই গল্প এখন রাণীশংকৈলে আলোচিত। তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন মোশাররফ হোসেন।